বিদায়ী বছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে ৩২৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হালনাগাদ তথ্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বছরের শুরুতেই বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসীরা প্রায় ৫৯ কোটি ডলার বেশি পাঠিয়েছেন। বিশেষ করে ডিসেম্বরের শেষ দুই দিনেই (৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর) ১৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার দেশে এসেছে, যা মাস শেষে রেমিট্যান্সের গ্রাফকে এক লাফে অনেকটা উঁচুতে নিয়ে গেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) চিত্রও বেশ আশাব্যঞ্জক। এই সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথমার্ধেই প্রবাসী আয়ে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার স্থিতিশীল হওয়া এবং বিশ্ববাজারে ডলারের বিনিময় হারের সমন্বয়ও এই রেকর্ড রেমিট্যান্সের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি আমদানি ব্যয় মেটানো এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনে সরকারকে বড় ধরনের সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।