পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া শুরু করছে সরকার। আগামীকাল রবিবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি ইস্যু করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি আইপি ইস্যু করা হবে এবং প্রতিটি আইপিতে ৩০ টন করে পেঁয়াজ আনার অনুমতি থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১,৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই সীমিত আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে।
হঠাৎ বাড়তি দাম, তারপর সরকারের পদক্ষেপ
সম্প্রতি দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
দোকানিরা এর কারণ হিসেবে আমদানি বন্ধ থাকা এবং নতুন আগাম পেঁয়াজ বাজারে না আসাকে দায়ী করেছেন। এই মূল্যস্ফীতির মুখে ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করলে সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
এর আগে গত ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, বাজারের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না এলে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। দাম স্বাভাবিক হলে অনুমতি দেওয়া হবে না। অবশেষে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে আমদানির সিদ্ধান্ত এলো।
আইপি ইস্যুর প্রক্রিয়া ও শর্তাবলি
কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত অনুসরণ করতে হবে। শুধুমাত্র সেইসব আমদানিকারক আবার আবেদন দাখিল করতে পারবেন, যারা গত ১ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।
প্রতিদিন ৫০টি আইপি ইস্যু হবে এবং প্রতিটি আইপিতে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন থাকবে। পেঁয়াজের বাজার সহনীয় না হওয়া পর্যন্ত পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সীমিত আমদানির কার্যক্রম চালু থাকবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সীমিত আকারে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে সহায়তা করবে। তবে, দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও এখানে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।