× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের আধিপত্যে পতন, বিকল্প খুঁজছে বাংলাদেশ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৮ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:৫০ পিএম । আপডেটঃ ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০০:৩৯ এএম

ভারতীয় পেঁয়াজ। ফাইল ছবি

ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন তলানিতে, তবুও দেশটির পেঁয়াজ রপ্তানি স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এই দুরবস্থায় হতবাক হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। প্রধানত, বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করছে এবং ভারতের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান ও চীন থেকে পণ্যটি সংগ্রহ করছে। নয়াদিল্লির বারবার অস্থায়ীভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার নীতির কারণে মূলত এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

ভারতের বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া পেঁয়াজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ ভারত থেকে খুবই সামান্য পরিমাণ পেঁয়াজ কিনেছে, যদিও ঢাকার বাজারে দাম ভারতের স্থানীয় বাজারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। শুধু বাংলাদেশ নয়, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর আগেও ২০১৯-২০২০ সালেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলস্বরূপ, ভারতীয় পণ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর বাজারে পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে হর্টিকালচার প্রোডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ পেঁয়াজ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, "আমরা আমাদের গুণমানের জন্য অতিরিক্ত দাম নিতে পারতাম। যখন আমরা দীর্ঘদিন বাজারে ছিলাম না, তখন আমাদের গ্রাহকেরা বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করেছে। এখন তারা আর গুণমান তুলনা করে না; বরং আমাদের প্রতিযোগীদের সঙ্গে দামের তুলনা করে।"

২০২০ সালে, ঘন ঘন নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠিয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তাদের দেশের কৃষকদের সুরক্ষা এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।


আমদানিতে বিশাল পতন

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ কিনেছিল বাংলাদেশ, যা ওই বছর ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির ৪২ শতাংশ।
  • তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর—এই ছয় মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশ কিনেছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ। এটি আমদানিতে বিশাল পতনের চিত্র তুলে ধরে।

রপ্তানিকারকেরা বলছেন, রপ্তানি নীতির ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলেই (যা মূলত স্থানীয় বাজারমূল্য দ্বারা প্রভাবিত হয়) ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো অন্যত্র কেনাকাটা করতে বাধ্য হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল সতর্ক করে বলেছেন, "আমরা কেবল আমাদের ঐতিহ্যবাহী অনেক ক্রেতাকে হারাইনি, তারা ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে পেঁয়াজে স্বাবলম্বী হতেও শুরু করেছে।"

ভারতীয় রপ্তানিকারকদের উদ্বেগের আরও একটি বড় কারণ হলো ভারতীয় পেঁয়াজের বীজের বেআইনি রপ্তানি। তাঁদের দাবি, সেই বীজই ভারতের পেঁয়াজের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে, যা পণ্যটির বাণিজ্যে ভারতের বহুদিনের আধিপত্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেছেন, "বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও অন্য প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ ব্যবহার করে পেঁয়াজ উৎপাদন করছে। এই প্রবণতা ভারতীয় কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।"

এইচপিইএ সরকারকে প্রতিযোগী দেশগুলোয় পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার হোসেন নবীন

যোগাযোগ: +880244809006

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 National Tribune All Rights Reserved.