× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৫ ব্যাংকের কর্মীদের বেতন-সুবিধায় কাটছাঁট

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০০:৫৯ এএম । আপডেটঃ ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৪০ এএম

আর্থিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় এবং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধায় উল্লেখযোগ্য কাটছাঁট আসতে পারে। এই পাঁচ ব্যাংক ভয়াবহ তারল্য সংকটে ভুগছে এবং কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক সদর দপ্তরে ব্যাংকগুলোর প্রশাসকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর ব্যাংকগুলোর দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংকই বর্তমানে তীব্র তারল্য সংকটে জর্জরিত। ব্যাংক রেজোলিউশন বিভাগ আয়োজিত আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর সভাপতিত্ব করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরা কর্মীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে মোট ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছিলেন। এর জবাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধুমাত্র কর্মীদের বেতনের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ছাড়ের অনুমোদন দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই পাঁচ ব্যাংকের একজন প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন, খুব শিগগির বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। এই পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী কর্মরত আছেন। ব্যাংক রেজোলিউশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বেতন ও সুবিধা কমানোর জন্য তারা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।

পাঁচ ব্যাংকের নাজুক আর্থিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা ব্যবহার করে কর্মীদের বেতন দিচ্ছে।

যেমন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা নিট অপারেটিং ক্ষতি দেখায়, যেখানে বেতন ও ভাতা খাতে ব্যয় ছিল ৬৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, কর্মীদের বেতন পরিশোধের জন্য আমানতকারীদের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছিল। ব্যাংকটি গত বছর মোট ৫ হাজার ৪৫০ কোটি ১৫ লাখ টাকা নিট লোকসান দেখিয়েছিল।

ব্যাংকের নাজুক পরিস্থিতিতে কর্মীরাও আর্থিক সংকটে আছেন। ইউনিয়ন ব্যাংকের একজন কর্মী জানান, বেতন অ্যাকাউন্টে জমা হলেও কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে সেই টাকা উত্তোলন বা ব্যবহার করতে পারছেন না।

এই মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি' নামের একটি নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠনের প্রাথমিক অনুমোদন দেয় এবং সরকারের কাছে চিঠি পাঠায়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই পাঁচটি ব্যাংককে মোট প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। তবে, ব্যাংকগুলো এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এই বিপুল অর্থ ফেরত দিতে পারেনি। গত ২৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে লেখা এক চিঠিতে 'গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা' উঠে আসার কথা জানিয়েছিল।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার হোসেন নবীন

যোগাযোগ: +880244809006

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2025 National Tribune All Rights Reserved.