বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৬৮০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং বন্ড ইল্ড কমার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৩ হাজার ৬৮০.৮০ ডলারে পৌঁছে। দিনের শুরুতে এটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৮৫.৩৯ ডলারে উঠেছিল। একই সময়ে, ডিসেম্বরে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৭১৯ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন ফেডারেল রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা তাদের অবস্থান ঠিক করে নিচ্ছে, যা বছরের বাকি সময়ের জন্য বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে। ডলার সূচক ০.৩ শতাংশ কমে এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে, যা অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন ১০-বছরের ট্রেজারি ইল্ডও কমেছে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজার প্রায় নিশ্চিত যে ফেড বুধবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমাবে। এটি গত ডিসেম্বরের পর প্রথম সুদের হার কমানোর ঘটনা হবে। কিছু বিনিয়োগকারী অবশ্য ৫০ বেসিস পয়েন্টের বড় পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছেন।
জ্যানার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মেটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্রান্টের মতে, এই মুহূর্তে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা প্রায় নিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, স্বর্ণের পরবর্তী লক্ষ্য ৩ হাজার ৭০০ ডলার এবং স্বল্পমেয়াদে ৩ হাজার ৭৩০ ও ৩ হাজার ৭৪৩ ডলারের দিকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কম সুদের পরিবেশে স্বর্ণের দাম সাধারণত আরও বাড়ে।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, চীন স্বর্ণ আমদানি ও রপ্তানির নিয়ম শিথিল করতে পারে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের চাহিদা বাড়িয়েছে। এটি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করেন স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং।
এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর দামেও পরিবর্তন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪২.৬২ ডলারে বিক্রি হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০০.৭৭ ডলারে পৌঁছেছে, তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৯৩.২১ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।